বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম দেশব্যাপী প্রবীণদের কল্যাণে বিশেষত গ্রামীণ অসহায়, দুঃস্থ, অবহেলিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে পরিচালিত হয়।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এ ভাতার সুবিধা ভোগীদের অধিকাংশ বয়স্ক মহিলা। এর কারণ হলো, বয়স্ক বিধবা বা স্বামী নিগৃহীতা মহিলারা সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে বেশি অসহায় থাকেন এবং তাদের দেখাশোনার জন্য কেউ থাকে না, ফলে তারা এই ভাতার উপর বেশি নির্ভরশীল হন।
রহিমা বেগম পারিবারিক, অর্থনৈতিক এবং শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। পারিবারিকভাবে, তার সন্তানরা তাকে বোঝা মনে করে এবং অবহেলা করে। অর্থনৈতিকভাবে, তার কোনো আয় নেই এবং তিনি ঔষধ কেনার সামর্থ্য রাখেন না। শারীরিকভাবে, অসুস্থ হলেও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পান না। এই সবগুলো সমস্যা তাকে অসহায় করে তুলছে।
রহিমা বেগমের মতো অসহায় প্রবীণদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। সরকারিভাবে, রহিমা বেগম বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের সুবিধা পেতে পারেন, যা তাকে প্রতিমাসে ৬৫০ টাকা হারে আর্থিক সহায়তা দেবে। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর মাধ্যমে তার সন্তানদের উপর ভরণ-পোষণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যেতে পারে। বেসরকারিভাবে, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান তার স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারে। বাংলাদেশ মহিলা স্বাস্থ্য সংঘ, রোটারি ক্লাব, মা ও শিশু নিবাস, বৃদ্ধ নিবাস, ঝরাপাতা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানও তার মতো প্রবীণদের আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় রহিমা বেগমের মতো প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে এবং তারা সমাজে নিজেদের নিরাপদ ও মূল্যবান মনে করতে পারে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: প্রবীণ অধিকারের ধারণা ও প্রবীণদের অধিকারসমূহ
Aligned to the NCTB national curriculum.