প্রবীণদের অধিকারের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
প্রবীণদের স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট দুটি অধিকার হলো পর্যাপ্ত খাদ্য, পানীয়, আশ্রয়, পরিধানের বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার এবং যত দীর্ঘ সময় সম্ভব পরিবারের সাথে বাড়িতে থাকার অধিকার।
জনাব করিম মূলত পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তার ছেলেমেয়েরা কর্মজীবী হওয়ায় তাকে সঙ্গ দেওয়ার বা তার সঙ্গে গল্পগুজব করার লোক থাকছে না, ফলে তিনি নিঃসঙ্গ ও বিমর্ষ বোধ করছেন। এটি পারিবারিক সমস্যার অংশ। এছাড়াও, এই নিঃসঙ্গতা এবং স্মৃতিবিভ্রম তার মধ্যে এক ধরনের হীনম্মন্যতার জন্ম দিচ্ছে এবং তাকে খুব অবহেলিত ও অসহায় ভাবতে শুরু করিয়েছে, যা তার মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার নির্দেশক।
জনাব করিমের মতো প্রবীণদের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা সমাধানে পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারে প্রবীণদের সঙ্গ দেওয়া, তাদের সাথে গল্পগুজব করা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। যদিও কর্মব্যস্ততা একটি কারণ, তবুও পরিবারের সদস্যদের উচিত প্রবীণদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা। সমাজে প্রবীণদের জন্য অবসর যাপন বা চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। স্থানীয় ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে, যেখানে তারা একে অপরের সাথে মেলামেশার সুযোগ পাবে। এছাড়াও, প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চিত্তবিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের নিঃসঙ্গতা দূর করতে পারে। সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করে প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে, যা তাদের মধ্যে হীনম্মন্যতা দূর করে এবং মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: প্রবীণ অধিকারের ধারণা ও প্রবীণদের অধিকারসমূহ
Aligned to the NCTB national curriculum.