জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অধিকার আছে।
একজন শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও সচেতন নারী ঘরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে।
মিতার ক্ষেত্রে সমাজের সেই মনোভাব দায়ী যেখানে কন্যাশিশুকে বোঝা মনে করা হয় এবং পুত্রসন্তানের চেয়ে কন্যাসন্তানকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রামীণ সমাজে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও এর একটি কারণ। ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাকে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকারের পরিপন্থী।
মিতার মতো নারীদের শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। এই পদক্ষেপ মিতার মতো মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারত, যদি তার পরিবার এর সুযোগ নিত। এই ধরনের পদক্ষেপগুলো গ্রামীণ এলাকায় মেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত করতে সহায়ক। শিক্ষার মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয় এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, যা তাদের শিক্ষক বা ডাক্তার হওয়ার মতো স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করে। এছাড়াও, সমাজে শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া অবস্থার পুরোপুরি পরিবর্তন হয়তো ঘটবে না, যা মিতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে নারী অধিকারসমূহ ও নারী অধিকারের গুরুত্ব
Aligned to the NCTB national curriculum.