উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে এই তাপমাত্রা কখনো কখনো ৪°-৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসে।
নদীভাঙনের ফলে হাজার হাজার একর আবাদি জমি, বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি ও কাজের সংস্থান হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে, যা আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ফারুক সাহেব 'খরা' নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণগুলো গবেষণা করছেন। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অভাব দেখা দিচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যার ফলে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষ সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে। খরা হলো প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাবে ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেলে সৃষ্ট একটি দুর্যোগ। বৃষ্টিপাতের অভাব ছাড়াও বিভিন্ন নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ, বননিধন, পরিবেশদূষণ, সেচ কাজে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহার ইত্যাদি কারণেও খরা হয়, যা ফারুক সাহেবের গবেষণার বিষয়বস্তু।
খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূগর্ভস্থ পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খরা মূলত প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাব এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে ঘটে। যদি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে নিচে নেমে যায়, তবে তা খরার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং কৃষি ও পানীয় জলের সংকট সৃষ্টি করে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে: ১. ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরীক্ষা করে মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। ২. বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে রিচার্জ করার ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. সেচ কাজে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে। ৪. পানি ব্যবহারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং পানির অপচয় রোধ করতে হবে। ৫. আধুনিক সেচ পদ্ধতি, যেমন ড্রিপ ইরিগেশন বা স্প্রিংকলার ব্যবহার করে পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে হবে। এই ব্যবস্থাগুলো ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে স্থিতিশীল রাখতে এবং খরার প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে, যা কৃষি ও জনজীবনের জন্য অপরিহার্য।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.