বিশেষজ্ঞদের মতে একটি দেশের মোট আয়তনের শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার।
গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো (যেমন: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন) বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত মাত্রায় সঞ্চারিত হয়ে পৃথিবীর তাপ ধরে রাখে, যা তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে তোলে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ হয়।
মেরু অঞ্চলের বরফ অস্বাভাবিকভাবে গলে যাওয়ার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলস্বরূপ বাংলাদেশের দক্ষিণাংশের নিম্নাঞ্চলসহ পৃথিবীর সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলো ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এটি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি জমির ক্ষতি এবং পানীয় জলের সংকটের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৭ ভাগ, যা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বনভূমি কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। বনভূমি কমে যাওয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়াও, বনভূমি বৃষ্টিপাত চক্রকে প্রভাবিত করে, ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর মোকাবিলায়, ব্যাপক হারে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা, বনভূমি ধ্বংস রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.