গ্রীষ্মকালে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কখনো কখনো তাপমাত্রা ৪০°-৪৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে।
হিমালয় পর্বতমালা শীতকালে বাংলাদেশকে উত্তর থেকে আসা হিমপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে। তাই শীতকাল এখানে দীর্ঘ হয় না।
গবেষক কর্তৃক উত্তরাঞ্চলে দেখা দুর্যোগটি হলো 'শৈত্যপ্রবাহ'। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। বাংলাদেশ শীতপ্রধান দেশ না হলেও কোনো কোনো বছরে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে আগত মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ দেখা যায়। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি হয়। প্রবল শীতে মানুষের প্রাণহানিও ঘটে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
গবেষকের প্রতিবেদনে উল্লেখিত দুটি দুর্যোগ (শৈত্যপ্রবাহ ও বন্যা) মোকাবিলায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে: শৈত্যপ্রবাহ মোকাবিলায়: ১. শীতবস্ত্র বিতরণ: দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করা। ২. আশ্রয়ণ: বাসস্থানহীন মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা। ৩. স্বাস্থ্যসেবা: শৈত্যপ্রবাহজনিত রোগবালাই প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। ৪. সচেতনতা: তীব্র শীতের সময় করণীয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। বন্যা মোকাবিলায়: ১. বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার: নদীর পাড়ে মজবুত বাঁধ নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা। ২. ঘরবাড়ির ভিটা উঁচু করা: বন্যাপ্রবণ এলাকার ঘরবাড়ির ভিটা উঁচু করে নির্মাণ করা। ৩. নদী খনন: নিয়মিত নদী খননের ব্যবস্থা করা যাতে নদীর তলদেশে পলি জমে জলধারণ ক্ষমতা কমে না যায়। ৪. আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং দ্রুততার সাথে জনগণকে তথ্য জানানো। ৫. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: উজানের দেশগুলোর সাথে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা করা। এই সম্মিলিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে উভয় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং জনজীবনকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 6: বাংলাদেশের জলবায়ু › Topic: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Aligned to the NCTB national curriculum.