প্রবীণদের পরিচর্যা সংশ্লিষ্ট অধিকারের মূল লক্ষ্য হলো পরিবার ও সমাজের সেবাযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং দৈহিক, মানসিক ও আবেগীয় ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
প্রবীণ বয়সে মানুষের শারীরিক শক্তি কমে আসে এবং নানা রোগব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধে। এ সময় মানুষের একটু বিশ্রাম বা আরামের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের দেশের অনেক প্রবীণেরই এই আরামটুকু জোটে না। অসুস্থ অবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধাও তাঁরা পান না এবং রোগব্যাধিতে ঔষধপথ্য কেনার সামর্থ্য তাঁদের থাকে না।
মিজান সাহেবের চাওয়াগুলো প্রবীণদের পরিচর্যা সংশ্লিষ্ট অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। তিনি দৈহিক, মানসিক ও আবেগীয় ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা পাবার অধিকারের কথা বলেছেন, যা প্রবীণদের পরিচর্যা সংশ্লিষ্ট অধিকারের একটি মূল দিক। এছাড়া, মানবিক ও নিরাপত্তামূলক পরিবেশে থাকা এবং আশ্রয়, পরিচর্যা বা চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ভোগ করার কথা বলেছেন, যা এই অধিকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এই অধিকারগুলো প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করে।
মিজান সাহেবের মতো প্রবীণদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ভূমিকা পালন করা উচিত। সরকারের উচিত প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা, যেখানে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধের ব্যবস্থা থাকবে। বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বীমা চালু করা যেতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন 'প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান' তাদের স্বাস্থ্যসেবা দান, পুনর্বাসন ও চিত্তবিনোদন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করতে পারে। রোটারি ক্লাব, মা ও শিশু নিবাস, বৃদ্ধ নিবাসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবীণদের জন্য মানবিক ও নিরাপত্তামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে। এছাড়া, প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণকে উৎসাহিত করা উচিত এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা উচিত।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: প্রবীণ অধিকারের ধারণা ও প্রবীণদের অধিকারসমূহ
Aligned to the NCTB national curriculum.