বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবীণদের সংখ্যা প্রায় এক কোটি।
প্রবীণদের প্রতি এক সময় যে ধরনের সম্মান দেখানো হতো বা তাদের মতামতকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হতো, আজ আর তা দেখা যায় না। এর পেছনে সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিক শিক্ষার অভাব, বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব, আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের প্রসার ইত্যাদি অনেক কারণ কাজ করছে।
জনাব হাসান প্রবীণদের অংশগ্রহণ সংশ্লিষ্ট অধিকার ভোগ করতে আগ্রহী। তিনি বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশগ্রহণের অধিকার এবং স্বাস্থ্য ও সাধ্য অনুযায়ী সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণের অধিকার ভোগ করতে চান। তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাওয়ার আগ্রহ এই অধিকারের প্রতিফলন।
প্রবীণদের মতামতকে সমাজে গুরুত্ব দিতে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন কমিটি বা ফোরাম গঠন করা যেতে পারে যেখানে তারা নীতি নির্ধারণ ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। মিডিয়া ও গণযোগাযোগের মাধ্যমে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে সমাজের সামনে তুলে ধরা যেতে পারে, যাতে তাদের অবদান সম্পর্কে তরুণ প্রজন্ম সচেতন হয়। এছাড়াও, প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে যেখানে তারা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এবং নিজেদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ পাবেন।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: প্রবীণ অধিকারের ধারণা ও প্রবীণদের অধিকারসমূহ
Aligned to the NCTB national curriculum.