নারী অধিকার হলো নারীর জন্য প্রদত্ত সেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা, যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর মানুষের সব ধরনের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে 'মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র' অনুমোদন করেছে, যাতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ, আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষ এসব অধিকার পাওয়ার অধিকার পায়।
রহিমা বেগম বাংলাদেশে নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং শিক্ষা লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার স্বামী তাকে বাড়ির বাইরে যেতে না দেওয়া এবং কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার মতামত না নেওয়া নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। এছাড়া, ছোট ভাইয়ের উৎসাহ সত্ত্বেও স্বামীর পড়ালেখায় বাধা দেওয়ার ঘটনা তার শিক্ষা লাভের অধিকারের লঙ্ঘন। এই বিষয়গুলো নারীর প্রতি বৈষম্যের উদাহরণ।
রহিমা বেগমের মতো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, সমাজে শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি, যাতে নারী-পুরুষ উভয়েই নারী অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়। দ্বিতীয়ত, সরকারিভাবে নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা উচিত, যাতে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হন। চতুর্থত, পরিবার ও সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি-সংগঠনের মাধ্যমে আন্দোলন ও প্রচার চালানো যেতে পারে, যা নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম (বেসরকারি ও সরকারি)
Aligned to the NCTB national curriculum.