তড়িৎ বিভব পার্থক্য হলো তড়িৎ ক্ষেত্রের দুটি বিন্দুর বিভবের মধ্যেকার পার্থক্য, যা আধান প্রবাহের কারণ।
আধান বা চার্জ প্রবাহিত হওয়ার জন্য দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভবের পার্থক্য থাকা জরুরি। যদি দুটি বিন্দুর বিভব সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে কোনো বিভব পার্থক্য থাকে না এবং চার্জ প্রবাহিত হয় না, যদিও বিভবের মান অনেক বেশি হতে পারে। বিভবের পার্থক্যই চার্জকে উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে ঠেলে দেয়।
কাক যখন হাইভোল্টেজ ইলেকট্রিক তারের ওপর বসে, তখন তারের বিভব এবং তার নিজের শরীরের বিভব সমান হয়ে যায়। যেহেতু কাকের শরীরের দুটি অংশের (তারের ওপর বসা পা দুটি) মধ্যে কোনো বিভব পার্থক্য থাকে না, তাই তার শরীরের ভেতর দিয়ে কোনো চার্জ প্রবাহিত হয় না। চার্জ প্রবাহিত না হওয়ায় কাক ইলেকট্রিক শক খায় না।
এই ঘটনাটি বিভব পার্থক্যের ধারণার একটি চমৎকার উদাহরণ। যখন কর্মীরা হেলিকপ্টার দিয়ে হাইভোল্টেজ তারে খালি হাতে কাজ করে, তখন তারা শূন্যে থাকার কারণে তাদের শরীর ভূমির সাথে সংযুক্ত থাকে না। যখন তারা হাইভোল্টেজ তার স্পর্শ করে, তখন তাদের শরীরের ভোল্টেজ তারের ভোল্টেজের সমান হয়ে যায়। ফলে কর্মী এবং তারের মধ্যে কোনো বিভব পার্থক্য থাকে না। যেহেতু চার্জ প্রবাহিত হওয়ার জন্য বিভব পার্থক্য অপরিহার্য, তাই কোনো বিভব পার্থক্য না থাকায় কর্মীদের শরীর দিয়ে কোনো চার্জ প্রবাহিত হয় না এবং তারা ইলেকট্রিক শক অনুভব করেন না। এখানে ভোল্টেজের উচ্চ মান নয়, বরং বিভব পার্থক্যের অনুপস্থিতিই তাদের নিরাপদ রাখে।
SSC (Class 9-10) › Physics › Chapter 10: স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity)
Aligned to the NCTB national curriculum.