অনেক পিতামাতা মনে করে পুত্র বড় হয়ে বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াবে, সংসারের হাল ধরবে, অন্যদিকে কন্যা বিয়ের পর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে, উপরন্তু তাকে বিয়ে দিতে গিয়ে পিতামাতাকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে।
জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে 'মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র' অনুমোদন করে নারীর অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়াও, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে নারীর অধিকার সংরক্ষণে জাতিসংঘ অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
উক্ত পরিবারে কন্যাসন্তানের প্রতি যে মনোভাব দেখা যায়, তা বাংলাদেশের সমাজে নারীর পিছিয়ে থাকার অবস্থানকে নির্দেশ করে। এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে। এখনও অনেক পিতামাতা কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে গণ্য করে এবং পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়, যার ফলে মেয়েরা অনেক সময় প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরের বেশি পড়ালেখার সুযোগ পায় না।
উক্ত পরিবারের কন্যাসন্তানের জন্য নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় গৃহীত সুপারিশ বা পদক্ষেপসমূহ অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। সরকারের 'উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ ও তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা' এই কন্যাসন্তানের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে। এছাড়াও, সমাজে শিক্ষার বিস্তার ও সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া অবস্থার পুরোপুরি পরিবর্তন ঘটবে না। নারী অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা দূর করা এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরা এই পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সাহায্য করতে পারে। এতে করে কন্যাসন্তানটি তার প্রাপ্য শিক্ষা অধিকার লাভ করে সমাজে মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারবে।
Class 7 › বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় › Chapter 9: বাংলাদেশে প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীর অধিকার › Topic: বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম (বেসরকারি ও সরকারি)
Aligned to the NCTB national curriculum.